অক্টোবর ও নভেম্বরে স্থগিত হওয়া সিরিজ আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে দুই বোর্ড

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা

ঢাকা (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০) : জুলাইয়ে তিন টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। করোনাভাইরাসের কারণে সিরিজ স্থগিত করে দুই বোর্ড। আলোচনার প্রেক্ষিতে অক্টোবর ও নভেম্বরে স্থগিত হওয়া সিরিজ আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল দুই বোর্ড।
মাস তিনেক হলো সিরিজ নিয়ে আলোচনা করছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। আজ কথা একটু আগায় তো কাল পিছায়। কিন্তু এখনও সিরিজ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। একেক সময় স্বাগতিক দেশ থেকে আসছে একেক প্রস্তাব।
শ্রীলঙ্কা থেকে নতুন প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রীলঙ্কা থেকে একটা গাইডলাইন পেয়েছি। আপাতত সেটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই সিরিজের ভবিষ্যত চূড়ান্ত হবে।’
তবে জানা গেছে, এরই মধ্যে সিরিজ নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে বিসিবি। শ্রীলঙ্কা সরকারের কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন সিরিজ খেলতে রাজি নয় বিসিবি! মূলত কোয়ারেন্টাইন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা ও বিসিবি সর্বোচ্চ ৭ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাজি।
বিসিবির বিশেষ সূত্র থেকে জানা গেছে, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের থেকেই কোয়ারেন্টাইন নিয়ে আপত্তি এসেছে। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পর এক সপ্তাহ অনুশীলন শেষে কোনোভাবে-ই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে রাজি নয় খেলোয়াড়রা। এমনিতেই দেশের বাইরে টেস্ট। আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ বাড়তি গুরুত্ব বহন করে। সেখানে শতভাগ প্রস্তুতি না নিয়ে মাঠে নামতে রাজি নয় খেলোয়াড়রা।
শ্রীলঙ্কা সরকারের কড়া স্বাস্থ্যবিধির কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর হয় কি না, তা নিয়েই এখন সংশয়। বিসিবির প্রধান নির্বাহীর দাবি, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে শ্রীলঙ্কা।
সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বিসিবিকে নতুন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জানা গেছে, এবার কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড, অতিথিদের বহর এবং জৈব সুরক্ষা বলয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে পাঠিয়েছে তাঁরা। নতুন প্রস্তাব তৈরি করেছে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নতুন প্রস্তাবে রয়েছে একাধিক ইস্যু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ক্রিকেটারদের ১৪ দিনের কোয়ান্টাইন বাধ্যতামূলক। এ সময়ে হোটেলেই কাটাতে হবে অতিথিদের। ১৪ দিনে তিনবার করোনা পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের বহর হতে হবে ৩০ জনের এবং একবারেই ৩০ জনকে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছতে হবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশলে ডি সিলভা বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গাইডলাইন পেয়েছি। সেটা বিসিবিকে শনিবার পাঠানো হয়েছে। বিসিবি সেই গাইডলাইন মেনে সফর করতে চাইলে আমরা সিরিজ আয়োজন করতে পারব।’