ইউএনজিএ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে মিয়ানমারের ‘মিথ্যাচার এবং বিকৃত তথ্য’ ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ রাজধানী সারা-বিশ্ব

ঢাকা (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০) : জাতিসংঘের চলমান সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে মিয়ানমার ‘মিথ্যাচার এবং বিকৃত তথ্য’ উপস্থাপন করায় ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাথে অমানবিক আচরণের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বলেছে, মিয়ানমারের পক্ষে এটি নতুন কিছু নয়।

বাংলাদেশ বলছে, নিজেদের জনগণের ওপর মিয়ানমারের ইচ্ছাকৃত নিপীড়নের রাষ্ট্রীয় নীতি বিদ্রোহকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং মিয়ানমারকে সংগঠিত অপরাধের প্রজনন ভূমিতে পরিণত করেছে।

ঢাকার ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের ‘অপপ্রচারের’ জবাব দিতে তৎপর ছিল এবং বলেছে যে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে নিজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা অভিযান’ বাস্তবায়ন করতে রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ সংঘাত অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার।

জোর করে বাস্তুচ্যুত করা মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি নাগরিককে অস্থায়ী আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তিন বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সমস্যাটি মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং এর সমাধান অবশ্যই মিয়ানমারকেই খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকট সমাধানের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ করছি।’

মিয়ানমারের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ঠিক কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা উল্লেখ করে ঢাকার এক সিনিয়র কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমার যে মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার করেছে, ভিত্তিহীন সেসব অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তাদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের নীতি ছেড়ে এবং তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে নিতে সত্যিকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমার ইউএনজিএ-তে দাবি করেছে, বাংলাদেশ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে এ ধরনের ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন ও সন্ত্রাসবাদের অন্য চালকদের প্রতি বাংলাদেশ জিরো-টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছে।

ইউএনজিএ-তে সাধারণ বিতর্কের সময় মিয়ানমারের প্রতি বাংলাদেশ এ জবাব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলটিকে আমরা কোনো সন্ত্রাসী দ্বারা ব্যবহার হতে দিচ্ছি না। মিয়ানমারের নিজেদের দিকে নজর দেয়া দরকার।’

রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত, বিশেষ করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের ‘সাজানো ও বিভ্রান্তিমূলক’ বক্তব্যের প্রতিও ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয় : মঙ্গলবার ইউএনজিএ’র ভাষণে মিয়ানমারের মন্ত্রী কিয়াও তিন্ত সোয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধানের একমাত্র উপায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা।

তবে এ মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে রোহিঙ্গা ইস্যু দ্বিপক্ষীয় নয়, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *