কৃষকের মূখে আনন্দের হাসিঁ আলুর ফলন ভালো হওয়ায়

অর্থনীতি জাতীয় জেলার-খবর

ঢাকা ( মার্চ, ২০২১): বেড়ীর বাহিরে অগোচানো গ্রামীন সড়ক, সড়কে সারি সারি মালবাহী টমটম গাড়ী , গাড়ীতে বস্তা বর্তি আলু বোঝাই দিচ্ছে ব্যাপারিরা, মাঠে কৃষক কৃষানীর স্ব পরিবারে আলু তোলার দৃশ্য, মাঠ জোড়ে চোখের দৃষ্টি শক্তির মধ্যে অসংখ্য কৃষক কৃষানী পরিবারকে দেখা যায় একই কাজ করতে, সবাই জমিতে আলতো নিড়ানি দিয়ে উপরে উঠে আসা আলু গুলো ক্ষেতের এক পাশে জড়ো করছে, কেউ তা ব্যাপারিদের ক্ষেতেই মেপে দিচ্ছে, এই কাজে কৃষক কৃষানীদের সহযোগীতা করছে তাদের ছোট শিশুরাও, সবার মূখে আনন্দের হাসিঁ আলুর ফলন ভালো হওয়ায়।

রিতার মত একই অবস্থা বুড়রচর ইউনিয়নের বড়দেইল গ্রামের আলু চাষী আলাতাফ, সাখাওয়াত, দিপংকর, সুনিল সর্দার, প্রদিপ ও নুরনবী সহ অনেকের। এরা সবাই গত ৫বছর ধরে বেড়ীর বাহিরে লোনা জমিতে আলু চাষ করে নিজেদের অবস্থার অনেক পরিবর্তন করেছে। হাতিয়াতে যে কয়েকটি এলাকায় আলু চাষ হয় এর মধ্যে বড়দেইল এই গ্রামটি অন্যতম।

সরেজমিনে গিয়ে আলু ক্ষেতে দেখা হয় উপজেলা সদর ওচখালী থেকে যাওয়া আলু ব্যাপারী বেছু কারবারীর সাথে। বেছু কারবারী জানায় গত কয়েক বছর ধরে সে বড়দেইল গ্রাম থেকে আলু ক্রয়করে হাতিয়ার বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি করে থাকে। এখন মৌসুম হওয়ায় দিনের বেশীরবাগ সময় কাটে তার বড়দেইলের এই আলু ক্ষেতে। গত কয়েকদিন থেকে সে প্রতিদিন ২শত থেকে ৩শত মন করে আলু ক্রয় করছে। অনেক চাষীর সাথে আলু ক্ষেতে থাকা অবস্থায় তার কন্ট্রাক হয়ে যায়। আবার অনেকের আলু তোলার পর দেখে শুনে কিনতে হচ্ছে। তার মত হাতিয়ার বিভিন্ন বাজার থেকে অনেক ব্যাপারী এসে এখান থেকে আলু কিনে নিয়ে যায়।

বড়দেইল গ্রামের আলু চাষী হাফিজ উদ্দিন (৫৭)। স্ত্রীসহ স্কুল পড়–য়া দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে আলু তোলার কাজ করছে ক্ষেতে। ক্ষেতের এক পাশে আলুর বিশাল স্তুপ দেখে বুঝা যায় ভালো ফলন হয়েছে । কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলে হাফিজ জানায় গত ৫বছর ধরে আলো চাষ করছেন। এই বছর ১০ কড়া জমিতে সে আলু চাষ করেছে। প্রায় অর্ধেক জমিতে আলু তোলা শেষ এতে আনুমানিক ৪০ মন হবে বলে আশা করছে।

হাফিজের ক্ষেতের পাশে অন্য একটি ক্ষেতে আলু তোলার কাজ করছে রিতা মজুমদার (৩৫)। প্রচন্ড রোদ্রের মধ্যে সে সহ ৫জন আলু তোলার কাজ করছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, এই বছর ২৪শতক জমিতে সে আলু চাষ করেছে সে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩জন হওয়ায় সে দুই জন মহিলা শ্রামিক নিয়োগ দিয়েছে আলু তোলার জন্য। দিন শেষে সেই শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ১০ কেজি করে আলু দিয়ে দিতে হবে তাকে। এই বছর আলুতে বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রচন্ড তাফদাহের মধ্যেও কাজ করতে ক্লান্তি লাগছেনা তঁার। আলুর মূল্য কেমন পাচ্ছেন প্রশ্ন করলে রিতা জানায় সকাল থেকে ক্ষেতে কয়েকজন ব্যাপারী এসেছে । তারা ক্ষেত থেকে নিয়ে যাবে এজন্য মন ৫শত টাকা বলেছে কিন্তু সে রাজি হয়নি। সে কিছুদিন বাড়ীতে রেখে মূল্য বৃদ্বি পেলে বিক্রি করার চিন্তা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *