কোভিড-১৯ এর কারণে পরিবারের আয় ২০ শতাংশ কমেছে, বিবিএস জরিপ

জাতীয় প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজধানী

ঢাকা (০৯ অক্টোবর ২০২০): কোভিড-১৯ এর কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে বেকারত্বের হার কমাতে সহায়তা করলেও পরিবারের গড় আয় ২০ শতাংশ কমেছে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে ওঠে এসেছে।

জরিপের ফল বলছে, করোনার আগে গত মার্চ মাসে প্রতি পরিবারে মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায়।

একনেক সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই জরিপটি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ দেশের বিভিন্ন খাতে বিরূপ প্রভাব ফেললেও কৃষিক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

জরিপের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৯) শতাংশ আর্থিক সমস্যায় পড়েছিল।

এক-পঞ্চমাংশ পরিবার (২১.৩৩ শতাংশ) এই সময়ে সরকারি ত্রাণ এবং সহায়তা পেয়েছিল। যে পরিবারগুলো ত্রাণ ও সহায়তা পেয়েছিল তাদের মাসিক আয় ছিল ২০ হাজার টাকা বা তার নিচে।

মার্চ মাসে দিন মজুর ছিল ৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ে নেমে এসে ৪ শতাংশে। আবার সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল, কিন্তু মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কৃষিনির্ভর পরিবারের শতকরা ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে।

সমীক্ষা অনুসারে, কোভিড-১৯ এর কারণে বেকারত্বের হার দশ গুণ বেড়েছে। মার্চে এটি ছিল ২.৩ শতাংশ, যা জুলাই মাসে বেড়ে ২২.৩৯ শতাংশ হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে তা আবার ৪ শতাংশে নেমেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের সংখ্যা মার্চে ১৭ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে ১০ শতাংশ কমেছে। আবার সেপ্টেম্বরে এটি বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

বিবিএস প্রথমবারের মতো টেলিফোন সাক্ষাৎকার ভিত্তিক এই জরিপটি চালিয়েছে।

এ সময়কালে পরিবারের ব্যয় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। মার্চ মাসে পরিবার প্রতি মাসিক খরচ ছিল ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা। গত আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১১৯ টাকা।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ‘কোভিড -১৯ বাংলাদেশ: জীবিকার ওপর ধারণা জরিপ ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সভায় শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন এবং শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট অন্যরা যুক্ত ছিলেন।

চারটি মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে ১৩-১৯ সেপ্টেম্বর এই ধারণা জরিপটি করেছে বিবিএস। দৈব চয়নের মাধ্যমে মোট দুই হাজার ৪০টি ফোন নম্বর নির্বাচন করে জরিপটি করা হয়েছে। জরিপে প্রায় ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ (৯৮৯ জন) প্রশ্নের জবাব দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *