ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্মদিন আজ

ক্রিকেট খেলা বিনোদন

ঢাকা (অক্টোবর, ২০২০) : একাধারে ক্রিকেটার, সংসদ সদস্য। মাঠে ও মাঠের বাইরে পুরদস্তর এক অলরাউন্ডার মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৯৮৩ সালের আজকের দিনে (৫ অক্টোবর) চিত্রা পাড়ের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম তার। বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন আর মা হামিদা মুর্তজার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে কৌশিক যে আজকের ‘মাশরাফি’ হয়ে উঠবেন সেটা কে জানতো!

মজার ব্যাপার, একই দিনে ২০১৪ সালে মাশরাফি-সুমি দম্পতির কোল জুড়ে আসে ছেলে সাহেল। বাবা-ছেলে দুজনকেই শুভেচ্ছা জন্মদিনের।

মাশরাফির বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন এসবের সাক্ষী। প্রতিবারই অপারেশনের পর দেখেছেন ছেলের অবর্ণনীয় কষ্টগুলো। মুখ চেপে কাঁদলেও ছেলেকে সাহস জুগিয়েছেন প্রত্যেকটা মুহূর্ত।

‘ওর যখন প্রথমবার অপারেশন হয় তখন আমি ওকে দেখতে যাই। কৌশিককে দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। এই বাচ্চা ছেলেটা কীভাবে এত কষ্ট সহ্য করছে! এমনটা প্রতিবারই হয়েছে। ও ভীষণ সাহসী একটা ছেলে। নইলে কী আর এভাবেও ফিরে আসা যায়?’

মা হামিদা মুর্তজা বলেন, ‘ও শুধু আমার একার ছেলে না। ওর জন্য সবাই দোয়া করে, সবাই নিজের মনে করে বলেই আল্লাহ্‌ কৌশিককে এতদূর নিয়ে এসেছে।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা এখনও পুরোপুরি শেষ করেননি। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ২০০৯ সালে অলিখিত বিদায় জানান টেস্ট ক্রিকেটকে। বাকি রেখেছেন শুধু একদিনের ক্রিকেট। দীর্ঘদিন এই ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করে আসা মাশরাফি এ বছরই নেতৃত্ব ছাড়েন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে।

যদিও পুরোপুরি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগেই জন্মস্থান নড়াইলের মানুষদের কল্যাণে সপে দিয়েছেন নিজেকে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে অংশ নেন নির্বাচনে।

এখানেও তিনি জয়ী। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ‘নড়াইল হবে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান’ স্লোগান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দিন-রাত।

বন্ধুদের চোখে মাশরাফি অধিনায়ক কী আর সংসদ সদস্য কী। নড়াইলের বন্ধুরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে কৌশিক। প্রতিবারই নড়াইল যাবার পর যেন উৎসব লেগে যায়। আর ফেরাটা হয় মলিন মুখে

মাশরাফি অবশ্য জন্মদিনটাকে দেখেন অন্য দশটা দিন থেকে আলাদা। এ দিনেই তো জীবন থেকে হারিয়ে যায় আরও একটা বছর। তার মতে, মৃত্যুর দিকে আরেকটু এগিয়ে যাবার দিন এই জন্মদিন।

তিনি কখনও কেক কাটেননি জন্মদিনে। এক বছর বয়সের সময় মা হামিদা মুর্তজা ঘটা করে ছেলের জন্মদিন পালন করবেন বলে কেক নিয়ে আসেন। বাড়ি জুড়ে সাজসাজ রব, প্রথম সন্তানের প্রথম জন্মদিন। কিন্তু মুহূর্তেই সেটি মলিন হয়ে যায়।

নানা অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ডেকে বলে দেন, যেন কেক না কাটে। মেয়েকে বুঝিয়ে দেন, এসব কেন করতে হবে না।

যে কথা সেই কাজ। কেক আর কাটা হয়নি। সেই কথাটা আজও মেনে চলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের জন্মদিনে কেক না কাটলেও ছেলের আবদার রক্ষার চেষ্টা করেন ঠিকই।

চিত্রা দাপিয়ে বেড়ানো সেই কৌশিক আজ ৩৬ পেছনে ফেলে পা দিয়েছেন ৩৭ বছরে। এর মাঝে দেখেছেন কত উত্থান-পতন। এসবের অংশও যে তিনি।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মাশরাফি আজ দেশের সেরা অধিনায়ক হয়ে উঠেছেন সময়ের পরিক্রমায়। তার ছোঁয়ায় যে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট সেটা তো অজানা নয় এদেশের মানুষের।

২০১৭ সালে আইসিসির কোনো বৈশ্বিক আসরে (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলে তারই নেতৃত্ব। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলে টাইগাররা। ২০১৬ ও ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও তার নেতৃত্বে খেলে লাল-সবুজের জার্সি ধারিরা।

শত বাধা বিপত্তি এসেছে এই কুড়ি বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। কতবার যে চোটে পড়েছেন আবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের হয়ে লড়তে। ৭ বার তাকে যেতে হয়েছে অপারেশন টেবিলে ছুরি-কাচির নিচে। প্রতিবারই অপারেশনের পর ভেবেছেন, আমি কী আর খেলতে পারব?

তিনি খেলেছেন, ফিরেছেন পুরোদমে। চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিবারই লাল-সবুজ জার্সিটার কলার উঁচিয়ে বল হাতে দৌড়েছেন দেশের হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *