খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না: হাইকোর্ট

জাতীয়

নিউজ মিডিয়া ২৪:  ঢাকা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল আবেদন গ্রহণের শুনানি শেষে এ রুল জারী করেন । আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে খালেদা জিয়া এবং সরকারকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানিকালে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান আদালতকে বলেন, এ মামলায় প্রধান আসামিকে কম সাজা দেয়া হয়েছে। অন্যদের বেশি দেয়া হয়েছে। সবারই সমান সাজা হওয়া উচিত।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, দুদক আইন একটি বিশেষ আইন। এ আইনে ন্যূনতম সাজা হলেও সাজা বৃদ্ধি চাওয়ার এখতিয়ার দুদকের নেই। তাদের এ আবেদন এখতিয়ারবহির্ভূত। তাই এ আবেদন খারিজ করা হোক।
পরে আদালত বলেন, এখানে যেহেতু নতুন একটি প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে তাই রুল জারি করে শুনানি করি। আমরা শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য ভালো করে শুনব। সাজা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানির সাথে এ রুলেরও শুনানি হবে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন যে, তারা দুদকের আপিল আবেদনের কপি হাতে পাননি। তাই সে কপি না দেখে তারা শুনানি করতে পারবেন না। তাই কপি দেখার জন্য সময়ের আবেদন করেন তিনি। পরে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন সময় নির্ধারণ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুদকের আপিল গ্রহণের শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন।
তিনি বলেন, বয়স ও সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ডের যে রায় দেয়া হয়েছে, তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ। কারণ, খালেদা জিয়া এ মামলার প্রধান আসামি। একই মামলার অন্য আসামিদের যেখানে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, সেখানে তার পাঁচ বছরের এই কারাদণ্ডের রায় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। তার সাজার মেয়াদ বাড়ানোর জন্যই আমরা উচ্চ আদালতে এই আবেদন করেছি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।
এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।

এরপর গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ। একই সাথে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। এ ছাড়া আগামী ৮ মে ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *