ছাত্রদের হয়রানি করা হলে সমুচিত জবাব: ঢাবি শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি

শিক্ষা

নিউজ মিডিয়া ২৪:  ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যে কোনো ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা শিক্ষকরা আছি, পাশে থাকবো। যদি ছাত্রদের হয়রানি করা হয়, তাহলে শিক্ষকরা সমুচিত জবাব দিবে। ছাত্রদের আটক করার আগে আমাদের আটক করতে হবে।

আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা কর’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষকবৃন্দ ব্যানারে এই মানবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যাপরী, মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের অধ্যাপক সংগীতা আহমেদ, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন ওয়াদুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান প্রমুখ।

মানববন্ধনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি ভিসি তিনি শিক্ষার্থীদের যেমন শিক্ষক তেমন অভিভাবকও। অথচ তিনি (বর্তমান ভিসি আখতারুজ্জামান) বলেছেন অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
এটা আমার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মনে হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতিত হলো। সেটা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সুতরাং এটা আমাদের সকলের জন্য লজ্জার। আমি শুধু এটা বলবো প্রাতিষ্ঠানিক নারী নির্যাতনের ঘটনা এটাই যেন সর্বশেষ হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ৬টি লিখিত দাবি পাঠ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান।
দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষার পরিবেশ অক্ষন্ন রাখতে হবে; তাদের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; বিধিসম্মতভাবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যাতীত কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া যাবেনা; রাষ্ট্রীয় বাহিনী কিংবা বেসরকারী কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কোনো ছাত্র-ছাত্রী যেন আক্রান্ত না হয় সে জন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ সেল গঠন করতে হবে; অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে নয়, আন্দোলন চলাকালে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।

এছাড়াও শিক্ষকরা ভিসির বাসভবনে নারকীয় তা-ব চালানোর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনসহ সকল আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। তাদের ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো দুটি আমরা ছাত্রদের নিরাপত্তা চাই, শিক্ষকদেরও নিরাপত্তা চাই। কেন এই সমস্যার সৃষ্টি হলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর হামলা করেছে। আমরা জানি স্বায়ত্বশাসন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া পুলিশ ঢুকতে পারেনা। সুতরাং ঢাবি স্বায়ত্বশাসন অনুযায়ী পুলিশ যখন তখন এখানে কিছু করতে পারবেনা। তাকে আগে পূর্বানুমতি নিতে হবে।

প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যারা দায়িত্বে শিক্ষকরা আছেন। যাদের আমরা নির্বাচিত করেছি। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *