টি-২০ টুর্নামেন্ট পূর্বে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা

ক্রিকেট খেলা

ঢাকা, (নভেম্বর, ২০২০) : চলতি মাসেই ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পূর্বে বিসিবির ভাবনাজুড়ে রয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস। করোনা মহামারির দীর্ঘ বিরতিতে খেলোয়াড়দের ফিটনেসে প্রভাব পড়ার একটা শঙ্কা ছিল।

সম্প্রতি শেষ হওয়া চার দলীয় টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়রা এবং হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের খেলোয়াড়রা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মধ্যে আছেন। কিন্তু আসছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন আরও বেশকিছু ক্রিকেটার। আর এদের সবার ফিটনেস পরীক্ষা করে তবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে দেবে বিসিবি।

বিপ টেস্ট মূলত এনডিউরেন্স টেস্ট, আর ইয়ো-ইয়ো টেস্ট হলো এয়ারোবিক এনডিউরেন্স টেস্ট। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবারই প্রথম। এই পরীক্ষায় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভালো। তবে এই পরীক্ষা বিপ টেস্টের তুলনায় একটু বেশি কঠিন। এর কার্যকারিতা অবশ্য একেক দেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একেক রকম।

ট্রায়াল শুরু হলেও ক্রিকেটারদের আনুষ্ঠানিক ইয়ো-ইয়ো টেস্টের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে জানা গেছে, চলতি মাসে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সপ্তাহ খানেক আগে চূড়ান্ত ইয়ো-ইয়ো টেস্ট দেবেন ক্রিকেটাররা।

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গণমাধ্যমকে আগেই জানিয়ে রেখেছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমানের জন্য ড্রাফটের তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের নির্বাচিত হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। ফিটনেস পরীক্ষার জন্য ড্রাফটের তালিকা থেকে খেলোয়াড়দের তালিকা চূড়ান্ত করে তা পরে ঘোষণা করা হবে। জাতীয়, এইচপি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, লকডাউন চলাকালীন জাতীয়, এইচপি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছে এবং পরবর্তীতে গ্রুপ প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ শুরুর পর তাদের মানিয়ে নিতে আমরা উদ্বুদ্ধ করেছি। আমরা আশা করি, অন্যান্য ক্রিকেটাররা যারা সেট আপের বাইরে থাকতে পারে তারাও ব্যক্তিগত ফিটনেসের প্রতি একইভাবে চেষ্টা করবে এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসবে।

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আগেই জানিয়েছেন, ট্রেনাররা ঠিক করবেন, কীভাবে তারা পরীক্ষা নেবেন। তবে ইয়ো ইয়ো টেস্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এজন্যই আমরা বেশ আগেই জানিয়ে রাখলাম, যাতে ছেলেরা প্রস্তুত হতে পারে।

লকডাউনের সময় জাতীয় দল, এইচপি দলের ক্রিকেটাররা যেভাবে ফিটনেস নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেছে, তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। অন্যদেরও একই জায়গায় দেখতে চাই। টুর্নামেন্টের আগে বেশ কিছুটা সময় এখনো আছে। আশা করি জাতীয় দল, এইচপি ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বাইরে যারা আছে, ওরাও একই রকম নিবেদন দেখাবে এবং এই সময়টাতে ফিটনেস নিয়ে কাজ করে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারবে।

নান্নু যে সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, সেটারই বাস্তবে দেখা মিলেছে। বিপ টেস্ট নয়, বিসিবি আয়োজিত আসন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের পরীক্ষা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ইয়ো-ইয়ো টেস্টের ট্রায়াল দিয়েছেন ৭ ক্রিকেটার। তামিম ছাড়াও যেখানে ছিলেন সৌম্য-মিরাজ-তাইজুল-রনি-আল আমিনরা।

ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষায় টাইগার ক্রিকেটে এতদিন বিফ টেস্টকে অনুসরণ করা হতো। তবে এই প্রথম মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইয়ো-ইয়ো টেস্টকে। যদিও ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় অনেক আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে এই পদ্ধতি।

মূলত ব্যাট, বল বা প্যাড নিয়ে ক্রিকেটারদের দম বিচার করাই বিপ টেস্টের কাজ। এই বিপ টেস্ট বা ফিটনেস পরীক্ষা বলে দেয় কোন্ ক্রিকেটার খেলার মাঠের জন্য কতটা উপযুক্ত। এই পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় ভিওটুম্যাক্স নামে একটি পদ্ধতি। আর বিপ টেস্ট হচ্ছে ২০ মিটার শ্যাটল রানিং।

২০ মিটার দূরত্বে দুইটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ক্রিকেটারদের দৌড়ে যেতে হবে ‘বিপ সাউন্ড’ বেজে ওঠার আগেই। আর ক্রিকেটাররা ততক্ষণ পর্যন্ত দৌড়াবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আর দৌড়ানোর শক্তি থাকে। আর এই টেস্টের মাধ্যমেই নির্ণয় করা হয় ক্রিকেটারদের শরীরে কতটুকু অক্সিজেন সঞ্চালন হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের শরীরে শক্তির সঞ্চার করে।

আর ইয়ো ইয়ো টেস্টের ক্ষেত্রে কোণের সাহায্যে ২০ মিটার দূরে লাইন বানানো হয়। একটা লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন খেলোয়াড়। দুইদিকে কোণ দিয়ে বানানো লাইনের মধ্যে দিয়ে দৌড়তে থাকেন। বিপ ফের বাজলেই ঘুরে আসতে হয়। এক একটা মাত্রায় এক একটা রেখা বানানো হয়। একটা সময়ের মধ্যে ওই রেখায় পৌঁছাতে হয়।

যদি সময়ের মধ্যে প্রথম রেখায় না পৌঁছানো যায়, তাহলে পরের দুই রেখায় পৌঁছানোর মধ্যে সেই টাইম গ্যাপ মানিয়ে নিতে হয়। কম্পিউটার সফটওয়ারের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত হয়। প্রথমে দৌড়ানোর গতিবেগ অনেকটা জগিংয়ের মতো থাকে। কিন্তু যত সময় যায়, তত তাড়াতাড়ি বিপ হতে থাকে এবং তার মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যে ফিরে আসতে হয়।

ইয়ো ইয়ো টেস্টের প্রথম দিন দেখা গেল বিপের তালে তালে ট্রেইনারের সঙ্গে ছুটে চলছেন মিরাজ। খানিক বাদে আবারো থামছেন, আবার ছুটছেন। এটাই আসলে ইয়ো-ইয়ো টেস্টের পদ্ধতি। ট্রায়ালে অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের টেস্টের মাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছিল ১৭-১৮। ৭ ক্রিকেটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২.১ নম্বর তুলেছেন পেসার আল আমিন। বিপ টেস্টের মতো হলেও ইয়ো-ইয়ো ফিটনেস পরীক্ষা, অন্যগুলোর চাইতে কঠিন।

বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীর মতে, আধুনিক এই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও বিষয়টি ইতিবাচক। তিনি বলেন, ইয়ো-ইয়ো টেস্টটা আমাদের দেশে নতুন হলেও বেশ আগে থেকেই ক্রিকেটে তা ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য অনেক খেলাতেও খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরখ করা হয় বিফ ও ইয়ো-ইয়ো দুই পদ্ধতির কোনো একটি দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *