ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াত নেতাদের প্রার্থীতা বাতিলের সুযোগ নেই: ইসি সচিব

জাতীয়

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতারা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন তাদের মনোনয়ন বা প্রার্থীতা বাতিলের সুযোগ কোন নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
আজ বিকেলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্তের পর রাত সাড়ে আটটায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর কোন নিবন্ধন বর্তমানে নেই। তারা এখন বিএনপির প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। সেকারণে এ পর্যায়ে এসে তাদের প্রার্থীতা বাতিলের কোন সুযোগ নেই।
ইসির সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াতের ওই প্রার্থীরা ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মধ্যে ২০ দলীয়জোটের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন ২১ জন ও ২০ দলীয়জোটের প্রার্থী হিসেবে আম প্রতীকে ১জন ও স্বতন্ত্র থেকে ৩ জন। হাইকোর্টের রুলের প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় ইসির সভায় তার প্রার্থীতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সভা হয়। সভা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
জামায়াতে ইসলামীর নেতার ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার ব্যক্তির করা একটি রিট আবেদন গত মঙ্গলবার শুনানি করেন হাইকোর্ট। শুনানি শেষে ওই নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়টি ইসিকে তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে হাইকোর্ট।
সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আদালত আমাদের তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছিলেন। আমরা আজ নিষ্পত্তি করেছি। কাল আদালতকে জানাবো।’
রিট আবেদনটি করেন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, মো. আলী হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও হুমায়ুন কবির। রিটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২১ এবং ২০ দলের ১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনজন জামায়াত প্রার্থীর ভোটে অংশগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।
আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
২০ দল মনোনীত জামায়াতের ২২ প্রার্থী:
১. ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান
২. সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান
৩. খুলনা-৬ আবুল কালাম আজাদ
৪. কুমিল্লা-১১ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
৫. খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরোয়ার
৬. কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ (২০ দল, প্রতীক আম)
৭. পাবনা-৩ আনোয়ারুল ইসলাম
৮. পাবনা-৫ ইকবাল হোসাইন
৯. যশোর-২ আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইন
১০. ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম
১১. দিনাজপুর-১ আবু হানিফ
১২. দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম
১৩. নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম
১৪. গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান
১৫. সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক
১৬. সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম
১৭. পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী
১৮. নীলফামারী-২ মো. মনিরুজ্জামান
১৯. ঝিনাইদহ-৩ মতিয়ার রহমান
২০. বাগেরহাট-৩ ওয়াদুল শেখ
২১. বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলীম
২২. চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শামসুল ইসলাম।
স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হওয়া ৩ জন:
২৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল
২৪. চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম
২৫. পাবনা-১ আসনে নাজিবুর রহমান মোমেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *