ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’, খুলনা দিয়ে ঢুকতে পারে বাংলাদেশে

বাংলাদেশ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: ​দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে হয়ে আঘাত হানতে পারে- আবহাওয়া অধিদফতর গেল বৃহস্পতিবারই এমন পূর্বাভাস দিয়েছিল। গতকাল লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেয়। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি সামান্য পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ওই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপ থেকে ‘আম্ফান’ নাম নিয়ে ঘূর্ণিঝড় রূপে শনিবার রাতেই প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা খুলনা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

শনিবার (১৬ মে) আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রব এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার ৮০ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে এটির যে গতিমুখ রয়েছে তা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের পথ নির্দেশ করছে। তবে এই গতিপথ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনও হতে পারে। এখন ঘূর্ণিঝড়টি যে গতিতে ধেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকলে ১৯ কিংবা ২০ মে’র দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানবে।’

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান শনিবার রাতেই ব্যাপক শক্তি নিয়ে অগ্রসর হবে। এক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটারে উঠে যাবে।

আইএমডি জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে উড়িশ্যা প্যারাদ্বীপ থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আগামী ১২ ঘণ্টা অর্থাৎ শনিবার রাতের মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ রবিবার এটি তীব্র রূপ ধারণ করবে। এটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল দিয়ে সমতলে উঠে আসবে ১৮ থেকে ২০ মে’র মধ্যে।

এক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়টি কলকাতা হয়ে খুলনা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। যার প্রভাব থাকবে উত্তরের রাজশাহী অঞ্চলেও।

সাধারণত চারটি ধাপ পার করে লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। লঘুচাপ থেকে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, এরপর এটি নিম্নচাপে রূপ নেবে। নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড়।

এরইমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। যেটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *