নাইকো মামলা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য বেআইনি: খোকন

রাজনীতি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলমান থাকাবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বেআইনি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ চেম্বারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে নাইকো মামলায় কানাডার মাউন্টেড পুলিশ ও এফবিআই এর প্রতিবেদন নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, এফবিআই ও কানাডিয়ান পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে যে, হাওয়া ভবনকে প্রভাবিত করে নাইকো থেকে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে নিজস্ব পাবলিক প্রসিকিউটরের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মাধ্যমে দুদকের মামলা পরিচালনার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও, অ্যাটর্নি জেনারেল বারবার নাইকো মামলা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মামলাটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তার এ ধরণের বক্তব্য বেআইনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে এবং তারেক রহমানকে বিদেশে রেখে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
বুধবার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন কীভাবে টাকা কানাডা থেকে অন্যান্য দেশ হয়ে, বিশেষ করে ক্লেমান আইল্যান্ড হয়ে সুইজারল্যান্ড, সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে এবং তারপর বাংলাদেশে এসেছে এবং তা ঘুষ দিয়েছে। আর এভাবেই গ্যাসে পরিপূর্ণ একটি ফিল্ডকে (ভার্জিন ফিল্ড) পরিত্যক্ত দেখিয়ে নাইকো তৎকালীন বিএনপি সরকারের কাছ থেকে কাজটি নিয়েছিল। এভাবে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের দেশের ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতি করতে নাইকোর কর্মকর্তাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তারা এই মামলার আসামি।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, মূলত শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় থাকাকালে নাইকোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিলো, এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তার সরকারের আমলে ফাইলটির অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাই কানাডিয়ান পুলিশ ও এফবিআই এর প্রতিবেদন একপেশে। এমনকি এই মামলা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলও একপেশে বক্তব্য রাখছেন।
ব্যারিস্টার খোকন দাবি করেন, নাইকো মামলা চলাকালীন এর তদন্ত প্রতিবেদনে এবং সাক্ষীর তালিকায় কানাডা পুলিশ কিংবা এফবিআই কর্মকর্তাদের নাম না থাকা সত্ত্বেও দেশে এনে তাদের তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে বক্তব্য দিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যে আবেদন করেছেন সেটি আইনসম্মত নয়।
সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা জিয়ার সুনাম নষ্ট করতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছে বলেও মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার খোকন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *