নুসরাত হত্যা, পৌরসভার কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ২

জেলার-খবর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ফেনী: অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ দেয়ায় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পৌরসভার কাউন্সিলরসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় জড়িত অভিযোগে সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মুকসুদুল আলম ঢাকা ও তার সহযোগীকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ফেনীতে আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে পরে জানানো হবে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
এই মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া ওই মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন এবং নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ড চলছে।
পাশাপাশি রিমান্ডে আছে নুসরাতের সহপাঠী ও মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার ভাগনী উম্মে সুলতানা পপি ও আরেক মাদরাসা শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ।
উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে লাখো মানুষের জানাজার পর সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
গত ৬ এপ্রিল ফেনীর পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রের সাদে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বোরকা পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এসময় তার চিৎকারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।
পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে। এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *