নেপালি প্রতিবেদন অবান্তর, পাইলটের ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রয়াস: ইউএস বাংলা

জাতীয়

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : চলতি বছরের মার্চ মাসে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি নেপাল সরকারের প্রকাশিত অনুসন্ধানী রিপোর্টকে ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম।

গণমাধ্যমকে কামরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক বক্সের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কি বের হয়েছে? ওই প্রতিবেদনের কোথাও কি লেখা আছে যে, এটা ব্ল্যাক বক্স প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে?

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমাণ্ডু পোস্ট-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় পাইলট আবিদ বিমান চালানোর সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, তার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয় বিমান অবতরণের আগে ত্রিভুবনের কন্ট্রোল টাওয়ারে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদনকে অবান্তর আখ্যা দিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছি? একটা আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ব্ল্যাক বক্সের ওপর একটা রিপোর্ট করবে। সেই রিপোর্টটা কি বের হয়েছে? এটা তো নেপালের তরফ থেকে আসবে না। আসবে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির তরফ থেকে। আর এটাকে তদন্ত রিপোর্ট বলারও সুযোগ নেই। এটা একটা অবান্তর রিপোর্ট। ইউএস বাংলা ও পাইলট আবিদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এটা হয়েছে।

বিমান চালানোর সময় পাইলট আবিদ সুলতান ক্রমাগত ধূমপান করেছেন বলেও দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। কাঠমাণ্ডু পোস্ট লিখেছে, আবিদ ধূমপায়ী ছিলেন- এই তথ্যও তিনি ইউএস বাংলার কাছে গোপন করেন।

এ বিষয়ে কামরুল বলেন, একটা পত্রিকার রিপোর্টকে আপনি কতটুকু অথেনটিক ভাববেন? আমাদের কাছে এধরণের কোনো ইনফর্মেশন নাই। আর কোনো সমস্যা থাকলে কখনও কোনো অপারেটর তাকে ফ্লাইট শিডিউল দিত না।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাঠমাণ্ডু পোস্টের পক্ষ থেকে কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

কাঠমাণ্ডু পোস্টের এই দাবিকে অসত্য দাবি করে কামরুল ইসলাম বলেন, একটা কল এসেছিল গত পরশুদিন। যিনি কল করেছিলেন, তিনি আবার কল দিচ্ছি বলে কেটে দেন। এরপর আর কল দেননি, কোত্থেকে বলছেন- সেটাও জানাননি। এরপর এধরণের কোনো কল আসেনি।

ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে রওনা হয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে কাঠমাণ্ডু নামার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১। আরোহীদের মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *