প্রণোদনা চায় ক্ষুদ্র পোশাক শিল্প উদোক্তারা

অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে সরকার পোশাক খাতের জন্য প্রণোদনা হিসেবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে। তবে শর্ত দিয়েছেন, এ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। মালিকরা এই টাকা পাবেন দুই শতাংশ হারের সুদে ঋণ হিসাবে। বিজিএমইএ জানিয়েছেন, যে শিল্প তাদের উৎপাদনের ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারাই এই প্রণোদনার টাকা পাবে। তবে ক্ষুদ্র পোশাক শিল্প কারখানা যারা উপ-দরপত্র (সাব কন্টাক্ট) নিয়ে কাজ করেন বা বিজিএমইএর সদস্য না তাদের জন্য এ প্রনোদনা আওতায় না রাখায় বিপাকে পড়েছেন। লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ থাকা এবং কাজের অর্থ না পাওয়ায় কিভাবে শ্রমিকদের বেতন দিবেন, কিভাবে প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে এই ভেবে হতাশায় ক্ষুদ্র পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা।
অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট্ররা জানিয়েছেন, ছোট শিল্প বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংকটটা বেশি, তাদের জন্য কোনো সহায়তার পরিকল্পনা না থাকায় অর্থনৈতিক মন্দা সামলানো কঠিন হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পোশাক কারখানা রয়েছে যারা রপ্তানি করে না, যারা রপ্তানি করেন তাদের কাছ থেকে সাব- কন্টাক্ট নিয়ে তারা কাজ করেন। এমন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এখন মহা বিপাকে পড়েছেন। কারণ যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ দিয়েছেন তারা এখন অর্থ পরিশোধ করেছে না বা কাজ হয়ে গেছে পণ্যও নিচ্ছে না। সংকট মোকাবেলায় তারা ব্যাংকের দ্বারস্ত হলেও এদের জন্য কোন নির্দেশনা না থাকায় ঋণও পাচ্ছেন না।
রাজধানীর মাদারটেকে অবস্থিত জামান ফ্যাশন ওয়্যার এর সত্ত্বাধিকারী হেনা জামান প্রাইম নিউজ বিডি ডটকমের প্রতিবেদককে জানান, ২০১৬ সালে ১২টি মেশিন নিয়ে ক্ষুদ্র আকারে নন্দীপাড়ায় ছোট একটি কারখানা করি। অবস্থা উন্নতির দিকে যাওয়ায় বর্তমানে ২২০ মেশিন নিয়ে দশ হাজার স্কয়ার ফিটের কারখানা পরিচালনা করছি। জামানাত না থাকার কোন ব্যাংক ঋণ দেয়নি। তবে নিজের এবং এনজিও থেকে বেশি সুদে ঋণ নিয়ে এ কারখানা চালাচ্ছি। চলছেও ভাল। শতভাগ রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠানের কাজ আমরা সাব কন্টাক্টে করে থাকি। দেশিও অনেক বড় বড় কাজও করে থাকি। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ লাখ ১০ হাজার পিস ড্রেস এর কাজ চলমান। কিন্তু ২৬ তারিখ থেকে বন্ধ রয়েছে। কাজ থাকলেও এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক পাচ্ছি না। গত ২/৩ দিন ধরে অল্পকিছু শ্রমিক নিয়ে ৩ হাজারের মত পিপিইর কাজ করছি।
তিনি বলেন, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ওয়াদা করেছি। এছাড়া কারখানা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু কিভাবে দিবো, তাই এ নিয়ে হতাশায় আছি। ব্যাংকে গিয়েছিলাম কিন্তু ব্যাংক প্রনোদনা আপনাদের জন্য নয় বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠান টিকে রাখতে এবং শ্রমিক ধরে রাখতে আগামী তিন মাস তাদের বেতন দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ আমার ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানটির জন্য দয়া করুন। অনেক কষ্ট করে এটি গড়েছি। এটি হারাতে চাই না। আমার স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেন।
হেনা জামানের মত অনকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিপাকে রয়েছে। তারা বিজিএমইর সদস্য না হওয়ায় কোন প্রনোদনা পাচ্ছে না। তাই শ্রমিকের বেতন পরিশোধে তাদের এবং কারখানা নিয়ে ভয় আছি। এসব প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে তাদের দ্রুত ব্যাংক ঋণ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

রাষ্ট্রায়ত্ত গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ প্রাইম নিউজ বিডি ডটকমকে জানিয়েছেন, ছোট শিল্প বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংকটটা বেশি, তাদের জন্য কোনো সহায়তার পরিকল্পনা না থাকায় অর্থনৈতিক মন্দা সামলানো কঠিন হবে।
‘এই সময়ের অর্থনীতির যে মন্দাভাব, সেটি সার্বিকভাবে পুরো অর্থনীতিতেই বিরাজমান। কাজেই শুধু রপ্তানি খাতের জন্য এই সুবিধা দেয়াটা যৌক্তিক নয়। কারণ রপ্তানি খাতের সাথে জড়িতরা বড় ব্যবসায়ী এবং তাদের ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতাও বেশি। বরং সরকারের প্রণোদনার লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল বিভিন্ন খাতের যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ছোট শিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *