প্রশ্নপত্রে পর্নোতারকার নাম দেয়া সেই শিক্ষক বরখাস্ত

শিক্ষা

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির পরীক্ষায় দুটি প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে দুই পর্নোতারকার নাম ছাপার দায়ে শিক্ষক শংকর চক্রবর্তীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী অংশের দুটি প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে চারটি অপশনের একটিতে পর্নো তারকা সানি লিওন ও মিয়া খলিফার নাম ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে এমন অসংলগ্নতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী? এই প্রশ্নের সম্ভাব্য যে চারটি উত্তর দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে পর্নোতারকা মিয়া খলিফার নাম দেয়া হয়। তবে তার নাম লেখা হয়েছে ‘মিয়া কালিফা’।
আরেকটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘আম-আটির-ভেঁপু’ কার রচিত? এই প্রশ্নের সম্ভাব্য চারটি উত্তরের একটি নাম সানি লিয়ন। শুধু তাই নয়, ওই প্রশ্নপত্রে রয়েছে এমন আরও অদ্ভূত বিষয়। চতুর্থ প্রশ্নটিতে প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায়- এমন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে রাখা হয়েছে রাজধানীর বলধা গার্ডেন। তবে নামটি লেখা হয়েছে ‘বলদা গার্ডেন’।
শিক্ষককে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয় প্রকাশ সরকার বলেন, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। যে ভুল হয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক। স্কুল বন্ধ থাকায় প্রশ্ন প্রণেতা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটু দেরি হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। লজ্জাজনক প্রশ্নপত্র তৈরির কারণ জানতে চেয়ে তাকে শোকজও করা হয়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তিতুমীর কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে পর্নো তারকার নাম আসার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *