বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারবালার হত্যাকাণ্ডের অদ্ভূত মিল : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বাংলাদেশ

ঢাকা (৩০ আগস্ট ২০২০): কারবালার সঙ্গে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের যেন অদ্ভূত মিল রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাইনি।
একটানা বাবাকে দুই বছর কাছে না পেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের জীবনে আমরা একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাইনি। যদি হিসাব করে দেখি একটা বছর বাদ গেলে তার পরের বছরই তিনি কারাগারে। ঘরে না যত দেখা হয়েছে তার চেয়ে বেশি জেলগেটে দেখা করতে হয়েছে। তিনি তার জীবনে এত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন কেন? বাংলাদেশের জনগণের জন্য।’

আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সকল শহীদের স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভায় অংশ নেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিবিসিতে প্রদত্ত কর্নেল রশিদ এবং ফারুকের ইন্টারভিউ এবং বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল যে, এই খুনিরা স্বীকার করেছিলেন তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমান আছেন। জিয়াউর রহমানের কাছ থেকেই তারা সব ধরনের সহযোগিতায় পেয়েছিলেন। আর সেই সঙ্গে বেইমানি মুনাফিকি করেছিলেন খন্দকার মোস্তাক।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে খন্দকার মোশতাক যে সম্পূর্ণ জড়িত। ১৫ আগস্টের পর মোশতাক নিজেই নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং তার সবচাইতে বিশ্বস্ত ছিলেন জিয়াউর রহমান। সে সময় সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিয়ে মোশতাক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান বানান এবং বঙ্গভবনে যতদিন ছিলেন জিয়া রহমান সেখানে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতেন। এই খুনিদের সঙ্গে উঠাবসা, বৈঠক, আলাপ-আলোচনা হতো। বিভিন্ন বক্তব্য এবং পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলার পর এটা আজ সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন, মানুষকে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন-এটাই কি তার অপরাধ ছিল?’ ‘পাকিস্তান নামের যে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল, সে রাষ্ট্রটি নির্মাণের প্রতিও তার অবদান ছিল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছিলেন। সে সময় তাদের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেখা গেছে, বাঙালি শোষিত-নির্যাতিত-বঞ্চিত। বাংলাদেশের উপার্জিত অর্থ দিয়েই পশ্চিম পাকিস্তানের মরুভূমিতে ফুল ফোটানো হচ্ছে। আর আমাদের দেশের মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র-বঞ্চিত-শোষিত থেকে যাচ্ছে’-যোগ করেন সরকারপ্রধান।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। যে সংগ্রাম ১৯৪৮ সালে শুরু হয়। সে সময় আমাদের মাতৃভাষায় কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে তখনকার তরুণ ছাত্র শেখ মুজিব মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। সেই সংগ্রাম শুরু করতে গিয়ে ১১ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দিলেন। সেখানেও তাকে কারাবরণ করতে হয়। এইভাবে আন্দোলন যখন শুরু…সেই ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে নিয়ে ধাপে ধাপে একটি জাতিকে তিনি প্রস্তুত করলেন স্বাধীনতার চেতনায়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বারবার আঘাত এসেছে। সে সময় যারা পাকিস্তানি শাসকদের তোষামোদি করতে পেরেছেন, চাটুকারিতা করতে পেরেছেন তাদেরকে তারা এ পূর্ববঙ্গে রেখেছেন। যখনই গণমানুষের নেতা নির্বাচিত হয়েছে, সেই নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন এখানে চালনা করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালে একই ঘটনা ঘটেছে। ’৫৪ সালে তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল কিন্তু মার্শাল ল দিয়ে সকল ক্ষমতা কেড়ে হয়েছিল। সেদিনও সেনাপ্রধান আইয়ুব খান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় গদি দখল করেছিল এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যার মধ্যদিয়ে কী পেয়েছে? আজকে যদি আমরা ১৫ আগস্টের দিকে তাকাই…আজকে আপনারা জানেন, আজ আশুরার দিন। সেদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসেনকে কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কারণ তারা ন্যায়ের পথে ছিল। কিন্তু কারবালায় নারী-শিশুদের হত্যা করা হয় নাই। কিন্তু ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি বা মিন্টু রোডের বাড়িতে নারী-শিশুরা রক্ষা পায়নি। ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে যেন এই হত্যাকাণ্ডের এক অদ্ভূত মিল রয়েগেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *