বিএনপির এমপি হারুনের আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে রুল

জীবনযাপন

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: শুল্কফাঁকির অভিযোগের মামলায় পাঁ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন অর রশীদের আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সুলতানা সামশাদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সামীউল আলম সরকার।

আদালতে রিটটি করেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ।

পরে আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন বলেন, ওনার পাঁচ বছরের সাজা হয়েছিল। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) বলা আছে, কেনো সংসদ সদস্য এ পদের অযোগ্য হবেন যদি ফৌজদারি মামলায় তিনি অন্যূন দুই বছর দণ্ডিত হন। সেখানে হারুন অর রশীদ পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত। সে কারণে জনস্বার্থে রিট করি।

‘রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিচারিক আদালত রায়ের অনুলিপি সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবর পাঠিয়েছিলেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। ওনারা এই মর্মে কোনো ব্যবস্থা না করায় আমরা লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলাম। সেটাতে কোনো সাড়া না পেয়ে ১৩ আগস্ট রিট দায়ের করি। আদালত এ রিটে সন্তুষ্ট হয়ে, কেন হারুন অর রশীদের এই আসনটাকে কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন, একইসঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তার কার‌্ক্রম কেন অবৈধ হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছেন। ’

চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক, হারুন অর রশিদ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ এমপি হারুনসহ তিনজনের নামে এ মামলা দায়ের করেন তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হারুন বিএনপি জোট সরকারের সময়ে এমপি থাকাকালে ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনেন।
গাড়িটি তিনি পরে ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু এমপি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।

এই মামলায় গত বছরের ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলার পলাতক আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও একলাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার অপর পলাতক আসামি ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় এমপি হারুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন হারুন অর রশীদ। হারুন অর রশীদের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদনের আপিল বিভাগ তা বহাল রাখার পর হারুন অর রশীদ মুক্তি পান।

হারুন অর রশীদ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *