মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ৩০ দিনের মধ্যে ধ্বংসের নির্দেশ

জীবনযাপন

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজার থেকে জব্দ করে এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ওষুধ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং তা প্রত্যাহার/ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও সংরক্ষণকারীদের শনাক্ত করতে পৃথক কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকির গেল ছয় মাসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন রিট করেন। তিনি বলেন, রুলে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, আইন, বাণিজ্য ও শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মিলন আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফার্মেসিতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, সংরক্ষণ ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে পৃথক স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার প্রতিবেদন আদালতে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের মন্তব্যের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *