মেয়ের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে ৮ কি.মি. হেঁটে হাসপাতালে বাবা

আন্তর্জাতিক

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক: ময়নাতদন্তের জন্য ৭ বছরের মেয়ের মৃতদেহ কাঁধে করে নিয়ে হাসপাতালে এলেন হতভাগ্য এক বাবা। গাড়ি ভাড়া করে লাশ নিয়ে যাবার সামর্থ ছিলনা তার।
ভারতের উড়িষ্যার গজপতি জেলায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। সূত্র: এনডিটিভি
স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে এ ঘটনার একটি সচিত্র খবর প্রকাশ হলে উরিষ্যায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এরপর গতকাল ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ হয়।
এ ঘটনার পর সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন।
এ কারণে গজপতির জেলাপ্রশাসককে তলব করেছে দেশটির রাজ্য সরকার।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশ, গত ১১ অক্টোবর তিতলি ঘূর্ণিঝড়ের সময় গজপতি জেলার আতঙ্কপুর গ্রামে নিখোঁজ হয়ে যায় মুকুন্দ দোরার ৭ বছরের মেয়ে ববিতা।
পরে বুধবার একটি নালার মধ্যে ববিতার মৃতদেহটি উদ্ধার হয়।
হতভাগ্য পিতা মুকুন্দ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘পুলিশ এসে মৃতদেহের ছবি তুলে নিয়ে যায় আর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য ভবানীপাটনা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে বলে যায়।’
কিন্তু পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না করে তাকেই হাসপাতালে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে যেতে হবে নির্দেশ দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন মুকুন্দ দোরা।
মুকুন্দ আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ আমার নেই। ফলে মেয়ের দেহ বস্তায় ভরে কাঁধে চাপিয়েই হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
উরিষ্যার ত্রাণ দফতরের এক মুখপাত্র দেশটির সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় তিতলির সময় ববিতার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উড়িশার কালাহান্ডি জেলাতেও প্রায় এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল। হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরেছিলেন এক ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *