রুহুল কবির রিজভী বলেছেন- ধর্ষণের শাস্তি বৃদ্ধি নিয়ে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য‘আইওয়াশ’

বাংলাদেশ রাজনীতি

ঢাকা (১১ অক্টোবর ২০২০) : ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বৃদ্ধি নিয়ে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘আইওয়াশ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করে দিয়েছি’- আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার দুপুরে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে যাবজ্জীবনের সাজার বিধান আছে সেটি প্র্রয়োগ হয়নি কেন? কারণ বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় গুম, খুন, ধর্ষণ মহামারি রুপ ধারণ করেছে। অধিকাংশ অপরাধীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়। তাদের শাস্তির বিধান দেওয়া দূরের কথা বরং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

ফলে অপরাধীরা যা খুশি তাই করার উৎসাহ পাচ্ছে। অপরাধ করে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির জন্যই দেশে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানিসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধগুলো জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতি করলে পার পাওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করে না-এটি যেন দেশের অলিখিত বিধান হয়ে গেছে।’

রিজভী বলেন, ‘আমাদের মনে হয় যে, আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। তার বক্তব্য চরম ধাপ্পাবাজি। দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেই আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্যই নতুন আইন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমান আইনের সাজা পরিবর্তন এনে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রস্তাব করা হচ্ছে। আগামী ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব তোলা হবে।’

বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এর পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *