রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে

জাতীয় জেলার-খবর প্রচ্ছদ

ঢাকা (অক্টোবর, ২০২০) : সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া অপর এক রোহিঙ্গা কিশোর বালক কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার মারা গেছেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিআইজি আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরিয়ে নেয়া হলো এনজিওকর্মীদের: রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী ইন্টার সার্ভিস কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সমন্বয়ক সৈয়কত বিশ্বাস জানান, সাধারণত এনজিওকর্মীদের বিকাল ৪টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থাকতে দেয়া হয় না।

কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তার কারণে সবাইকে (এনজিও কর্মীদের) ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালনং ২ নম্বর পূর্ব ক্যাম্পের তাবলিগ জামায়াত মার্কাজে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

একই সময়ে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে লম্বালশিয়ার ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কুতুপালং ওয়ান স্টপ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান।

নিহত শফিউল আলম (১৭) কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা জামাল হোসেনের ছেলে বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সংঘর্ষের এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জুর মোর্শেদ।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই রোহিঙ্গা হলেন- মাঝি কালা বোদা এবং মোহাম্মাদ আলম। তারা দুজনও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

এদিকে, কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, তারা পাঁচজন রোহিঙ্গাসহ গত সোমবার অপহরণের শিকার হওয়া ৮ জনকে উদ্ধার করেছেন।

ক্যাম্পটির ই-ব্লকের দুজন রোহিঙ্গা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অপরদিকে, দুজন রোহিঙ্গাকে হত্যা করার অভিযোগ এনে উত্তেজিত রোহিঙ্গারা নয়াপারা এলাকায় বেশ কিছু সময় ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে।

ডিআইজি’র পরিদর্শন: সংঘর্ষের ঘটনার পরে চট্টগ্রাম পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শন শেষে ক্যাম্প ইনচার্জের অফিস কক্ষে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন ডিআইজি আনোয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *