সখি তুমি কার: ইসিকে রিজভী

রাজনীতি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢ‍াকা: সরকারের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার’? নির্বাচন কমিশন তুমি কার?”
আজ সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন এবং একটা ছায়া হচ্ছে, একটা প্রলম্বিত ছায়া হচ্ছে, এই নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকাণ্ড। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সবই বাদ পড়ে গেলেন। আর উনাদের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা সবাই টিকে গেলেন? তো এখানেই বুঝতে পারেন যে, কার পরামর্শে নির্বাচন কমিশন চলছে। একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার?’ নির্বাচন কমিশন তুমি কার?”
রিজভী আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়ার ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আরো একটি আক্রোশের শিকার হলেন। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’
‘রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ছোট রুমটিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ওই ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত, সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ওই রুমে যেতে হয়।
বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভুল থাকার পরও ওই ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদের সাধু-সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।’
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও, তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেওয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তাঁর স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের। এ ধরনের কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত হয়নি, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তাঁর মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক আকাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে? লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।’
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক দণ্ডিত নেতার মনোনয়নপত্রও বৈধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালোবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *