সীমিত পরিসরে হজ পালনের অনুমতি আসতে পারে

আন্তর্জাতিক

নিউজ মিডিয়া ২৪: আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধমীয় ইভেন্ট হজ। সৌদি আরবে, বিশেষ করে মক্কা ও জেদ্দা শহরে ব্যাপকহারে করোনার সংক্রমণের কারণে এর আগে দেশটির সরকার কাউকে হজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিল। এখন দেশটির সরকার আভাস দিয়েছে, হজ বাতিল না করে সীমিত সংখ্যক মুসল্লী নিয়ে তা আয়োজন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হজ পালনেও মানতে হবে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি।

খবর রয়টার্সের।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ

Corona: News & Tips এ। এতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।

অতীতে মহামারি ও বন্যার কারণে একাধিকবার হজ বাতিল করার উদাহরণ আছে। তাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে উঠায় এবারও হজ বাতিলের আশংকা দেখা দিয়েছিল। করোনার কারণে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ সহ অনেকগুলো শহরে এপ্রিলে কারফিউ জারি করেছির সৌদি সরকার। পরে অবশ্য পুরো দেশকেই কারফিউর আওতায় আনা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় ক্বাবা শরীফ ও মসজিদুল হারামে নামাজ পরা। তবে কিছুদিন আগে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে সৌদি আরবে করোনা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি হয়নি। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবু এরই মধ্যে ‘প্রতীকী সংখ্যায়’ মুসল্লিদের নিয়ে হজ পালনের কথা ভাবছে দেশটির সরকার।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হজ পালিত হলেও তাতে নামমাত্র কিছু মুসল্লী অংশ নিতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজের জন্য নিবন্ধন করা মুসল্লীদের বড় অংশই এবার হজে অংশ নিতে পারবেন না।

জানা গেছে, হজ পালিত হলেও তাতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে থাকবে কঠোর শর্ত। বয়স্ক ও কিছুটা অসুস্থ ব্যক্তিদের হজের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে না। সবাইকে বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

উল্লেখ, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ করতে সৌদি আরব যান। হজ ও বছরব্যাপী ওমরাহ থেকে সৌদি সরকারের বছরে আয় হয় অন্তত ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

হজ ও ওমরাহ সৌদি আরবের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্য পতনের কারণে হজ খাতের আয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশটির জন্য। তাই করোনার বিস্তারের মুখেও দেশটি হজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কিন্তু অবস্থার বেশি অবনতি ঘটায় এখন বেশি মানুষের পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক মুসল্লী নিয়ে হজ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *