‘সৎ মানুষ দায়িত্ব না নিলে পরিবহন সেক্টরে কখনই শৃঙ্খলা আসবে না’

বাংলাদেশ

নিউজ মিডিয়া ২৪:  ঢাকা: পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করলেন রাজনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা  ইনস্টিটিউট (এআরআই) এবং রোড ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় এমন অভিমত উঠে আসে। বৈঠকে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে ভিআইপি সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব করেন গবেষকরা।

এত আলোচনা এত প্রতিবাদ সত্ত্বেও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল না কমে যেন উল্টো বেড়ে চলেছে। তাই স্ত্রীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়ে নিরাপদ সড়কের জন্য দুই যুগ ধরে আন্দোলন করার পর অনেকটাই হতাশ নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর উপলব্ধি পরিবহন সেক্টরে কখনই শৃঙ্খলা আসবে না, যতক্ষণ সৎ মানুষ দায়িত্ব না নেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা যদি পলিটিশিয়ানদের সচেতন করতে পারি। মানুষকে সচেতন করার দরকার নাই। ওনাদেরকে (রাজনীতিবিদ) যদি সচেতন করতে পারি এবং ওনাদের পলিসি যদি ওনারা সত্যিকার অর্থে সচেতন হয়ে অ্যাডাপ্ট (নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া) করেন। তাহলে কিন্তু যানজট বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বলেন, এগুলো আমরা দূর করতে পারব।’

বুয়েটের এআরআইয়ের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর ধারণাপত্রে উল্লেখ করেন, দেশে যানজটে বছরে ক্ষতি ২০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। আর এই ক্ষতি ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘যেহেতু প্রাইম মিনিস্টার ও প্রেসিডেন্ট সিকিউরিটি রিজনে, বড় জোর এই দুজনকে ছাড় দিতে পারে জনগণ। বাকি কেউ যেন অন রোড প্রায়োরিটি না পায়।  এক একটা প্রায়োরিটি ট্রাফিক সিগন্যালকে দুই ঘণ্টার মতো আনসেটেল (বিশৃঙ্খল করা) করে দেয়।

আগামী দিনে পরিবহন সেক্টরের এই বিশৃঙ্খলা মোকাবিলা করতে রাজনীতিবিদরা কী অঙ্গীকার করেন এটা জানতেই মূলত বুয়েটের  এ আয়োজন। কিন্তু দেশের প্রধান দুটি দল থেকে কোনো প্রতিনিধি না আসায় হতাশা প্রকাশ করেন অনেকেই।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দুটি বড় বড় দল এদেশে পালাক্রমে দেশ চালায়। তাদের নেতাদের কত পারসেন্ট (শতকরা) আছে যারা বাস মালিক বা পরিবহন ব্যবসার মালিক। ওদের কে আপনি বলবেন ব্যবসা করতে পারবেন, মুনাফা করতে পারবেন না। ওই পার্টি টেকানইতো মুশকিল।’

আর গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার জন্য উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বলেন, কেবল পরিবহনের চালকের ওপর দোষ চাপালে মূল সমস্যা আড়ালেই থেকে যাবে। আগামী নির্বাচনে পরিবহন খাত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কী অঙ্গীকার করে এবং সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয় কি না সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *