গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত

জেলার-খবর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গাজীপুর সিটির সীমানা নিয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলামের দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ দেন।
আদালতে নির্বাচন স্থগিতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জি এম ইলিয়াস কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আগামী ১৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে এই নির্বাচনের প্রচার জমেও উঠেছিল। এর মধ্যে আজ এই নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিলেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ।
রিট আবেদনে সাভারের ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ ঘোষণ করা হবে না, এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনটির সীমানা নিয়ে গেজেট ছয় মৌজার ক্ষেত্রে স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ রয়েছে। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত। এখানে ভোটার ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। গত ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনটির সীমানা নিয়ে গেজেট জারি করে। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, দক্ষিণ পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালে এ ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। তখন বিষয়টি নিয়ে এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আবেদন করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে আবেদনটি গ্রাহ্য না করায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। তখন আদালত আজহারুল ইসলামের আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এরই মধ্যে ২০১৬ সালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে এ ছয়টি মৌজা শিমুলিয়ার মধ্যেই ছিল। সেই নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন আবার এ ছয় মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু তিনি ছয়টি মৌজার ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এ ছয়টি মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *