জেল-জরিমানার বিধান রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল পাস

জেলার-খবর

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: জেল ও জরিমানার বিধান রেখে বন্দরের স্থাপনা ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এ সময স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিলটি পাসের আগে এর ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

এ বিলে বলা হয়েছে, বন্দরের কোনো স্থাপনা নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিধি অনুসারে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। আগের আইনে এটা ছিল না। কোনো ব্যক্তি বা জাহাজ বন্দর সীমানা দূষিত করলে প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর, সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই বছর, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা কমপক্ষে দুই লাখ টাকা, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

বিলে আরও বলা হয়, প্রয়োজনে দেশের যে কোনো স্থানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।   বিলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ও স্থানকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা যাবে।

বিলে বন্দরে পণ্য বোঝাই, সংরক্ষণ, খালাস ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অপারেটর নিয়োগের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। টোল, রেট, মাশুল ইত্যাদি ফাঁকি দেয়, তবে ছয় মাসের জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন যে অপরাধ হবে সেগুলো ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার হবে, মোবাইল কোর্টেরও বিধান রাখা হয়েছে।

এ বিলে বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়যোগ্য টোল, রেট, ফি ও মাশুল সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ করতে পারবে। বিলে সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে এই আইনের অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কাজের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ বা এর চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা রুজু করা যাবে না, বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারাও গ্রহণ করা যাবে না। এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘সরল বিশ্বাস’ বলতে অবহেলার সঙ্গে করা হোক বা না হোক প্রকৃতপক্ষে সততার সঙ্গে করা হলে কোনো কিছু ‘সরল বিশ্বাসে’ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *