মানুষ কি মানুষের শরীরে এইভাবে হাতুড়ি চালাতে পারে?

অপরাধ

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পাজরের ও পায়ের হাড় ভেঙে দিয়েছে ছাত্রলীগ। হাড় ভাঙার এক্সরে রিপোর্ট ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সবাই তরিকুলের প্রতি অসহায়ত্ব ও ছাত্র লীগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক এবং ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও।

শুক্রবার আনিসুল হক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমি কোনোদিন এক্সরে প্লেট দেখে ধরতে পারিনি, ভাঙাটা কোথায়। কিন্তু এই প্লেটে কী ভীষণভাবে হাড়গুলো ভাঙা। আমার মন ভেঙে গেছে। অযুত নিযুত মানুষের মন ভেঙে গেছে। ভাঙা হাড় হয়তো জোড়া লাগানো যাবে, কিন্তু অযুত মানুষের হৃদয় কি আর জোড়া লাগবে? মানুষ কি মানুষের শরীরে এইভাবে হাতুড়ি চালাতে পারে? মানুষ? মা নু ষ?

তিনি আরও লিখেছেন, মানুষ মানুষ হয়েছে সে হাতিয়ার বা যন্ত্র আবিষ্কার করেছিল বলে। কিন্তু হাতিয়ারের এই ব্যবহার মানুষের ইতিহাসকে পেছনে টানছে। বন থেকে মানুষ একবার গৃহবাসী হয়েছিল, এখন আবার আমরা জঙ্গলে ফিরে যাব? গুটি কয়েক অমানুষের কারণে?
মানুষেরা জাগবে না? মানুষের বিবেক জাগবে না? অমানুষেরা ভেঙে চলবে মানুষের মানবিকতা আর মনুষ্যত্ব আর মানুষ-পরিচয়ের হাড়গোড় অস্থিমজ্জা?

অপরদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের চলমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের ওপর তার আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন। নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে ছাত্রলীগ নিয়ে তার আতঙ্কের কথাও প্রকাশ করেছেন। তসলিমা নাসরিন মনে করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাটি দেখেও যেন নিশ্চুপ হয়ে আছে প্রশাসন এবং সরকার।

তসলিমা লিখেছেন, ‘আমাদের সময়ে আমরা ভয় পেতাম ছাত্র শিবিরকে। শিবিরের ছেলেরা ভালো মানুষ পেলেই তার রগ কাটত, মেরেও ফেলত। আমাদের আস্থা ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের ওপর। এখন শুনি ছাত্রলীগের ছেলেরা কারও কোনো চলা-বলা পছন্দ না হলে তার পেটে ছুরি বসিয়ে দেয়, লাঠিপেটা করে তাকে আধমরা করে ফেলে, হাতুড়ি মেরে তার পায়ের হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়। এদের নাকি কোনো বিচার হয় না। ধর্ম এবং রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য চিরকালই বোধহয় সন্ত্রাসীর দরকার হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *