৩ জেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩ জন

অপরাধ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক: বরিশাল, ফেনী ও ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ জন নিহত হয়েছে। এ সময় দুই কনস্টেবল আহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’অজ্ঞাত পরিচয়ে এক যুবক (৩৮) নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি রামদা, একটি চাপাতি, ৮ রাউন্ড গুলির খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আজ রোববার ভোররাতে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের বটতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম-পিপিএম জানান, গত কয়েকদিন আগে দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের আ. হক হাওলাদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি মামলা হয়, যা তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
এছাড়াও ইতিপূর্বে বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে শায়েস্তাবাদে।
এলাকায় আরও ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাবাদ এলাকায় পুলিশি নজরদারী বাড়ানো হয়।
শনিবার রাত ৩টার দিকে শায়েস্তাবাদ সংলগ্ন নদী থেকে আলো দেখতে পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দলের সন্দেহ হয়। তারা কাছাকাছি এগিয়ে গেলে ডাকাত সদস্যরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। এসময় ডিবি পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছু সময় বাদে ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাশ পরে থাকতে দেখা যায়। যার বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর হবে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই দেলোয়ার, কনস্টেবল রফিক ও হাফিজ আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না জানান, নিহত ডাকাত সদস্যকে স্থানীয়রা কেউ চিনতে পারেননি। তবে কয়েকদিন আগে আ. হক হাওলাদারের বাসায় যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সে সময় এই যুবককে তিনি দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাতে শহরের চরপাড়া এলাকায় গনশার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের জানিয়েছে, বিপ্লব শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ১০-১২টি মামলার আসামি। বিপ্লবের লাশ তল্লাশি করে ২০০ গ্রাম হেরোইন, ২০০টি ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা এবং ২টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
আজ রোববার ভোরে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশ কনস্টেবল রাশেদুল ও কাওছার আহত হন। তাঁদের ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আরো জানান, রমজান মাসে শহরে মাদক ছড়িয়ে দিতে মাদকের চালান ভাগাভাগি করছিলেন বিপ্লব ও তাঁর সহযোগীরা। খবর পেয়ে রাত সোয়া ২টায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চরপাড়া এলাকার গনশার মোড়ে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্নরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। আহত বিপ্লবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আলমগীর হোসেন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত আলমগীর উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা বলে দাবি পুলিশের।
নিহত আলমগীর পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠান গড় এলাকার আবদুস সালাম ভূইঁয়ার ছেলে।
শনিবার  দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠাননগর এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে ওই এলাকায় বড় ধরনের একটি মাদকের চালান রয়েছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতা আলমগীর ও তার দল পুলিশকে লক্ষ্য গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে মাদক বিক্রেতারা পালিয়ে গেলেও আলমগীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযানের সময় পুলিশ মাদকের ওই আস্তানা থেকে একটি বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি, ১শ’ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) এম মোর্শেদ পিপিএম গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত আলমগীরের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি উপজেলার চিহ্নিত ইয়াবার ডিলার ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *